সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২

জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০১

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিতে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে এ অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি।

এ অধ্যাদেশের ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার কারণে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে নতুন কোনো মামলা দায়ের করা যাবে না।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশ নেয়, তা পরবর্তীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ওই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলা প্রতিহত এবং জনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইনি সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে বলে এতে বলা হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে অংশগ্রহণের কারণে মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়ে থাকে, তাহলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত আইনজীবীর প্রত্যয়নসহ সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত ওই মামলায় আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবে না এবং মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে বলে গণ্য হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি বা খালাস পাবেন।

তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন অভিযোগ তদন্ত করবে, তবে পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

তদন্তের প্রয়োজনে কাউকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নিতে হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে।

কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে এবং আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদনের মতো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

আর যদি তদন্তে দেখা যায় যে অভিযোগে উল্লিখিত কার্যক্রম রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তাহলে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে আলাদা কোনো মামলা বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে সরকার বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এনএফ৭১/এমএ



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top