ভারতে বসে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:০৩
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সহিংস কর্মকাণ্ডে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দলটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে জাতিসংঘের মাধ্যমে গত বছরের ঘটনাবলির নিরপেক্ষ তদন্ত, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মব সন্ত্রাস, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে পরপর দুই সপ্তাহ নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংবাদ সম্মেলন আয়োজন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত তা বাস্তবায়ন করেনি। বরং তাকে ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থী বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আওয়ামী লীগ নেতাদের এসব বক্তব্যই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্টদের ওপর বর্তাবে এবং যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এনএফ৭১/এমএ
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।