সংসদের কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৩

সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার টাকায় কেনা এসব যন্ত্রপাতির প্রকৃত বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকারও কম বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র ৪ হাজার টাকার ব্যাগের দাম দেখানো হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। একইভাবে ৩ হাজার টাকার কার্ড রিডার কেনা হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকায়। ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকার ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা বডির দাম ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকা।

এছাড়া চারটি ক্যামেরা বডি কেনা হয়েছে মোট ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকায়। শুধু ক্যামেরা বডি নয়, লেন্স, মেমোরি কার্ড, ফ্ল্যাশ ও অন্যান্য অ্যাক্সেসরিতেও একই ধরনের অতিরিক্ত মূল্য ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ।

২৪–৭০ মিমি ফোকাল লেন্থের লেন্স তিনটি কেনা হয়েছে ৩৭ লাখ ৪১ হাজার টাকায়, যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধেকেরও কম বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। অন্যান্য লেন্স ও ফ্ল্যাশ ইউনিটেও বাজারদরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মূল্য দেখানো হয়েছে।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে সেফ ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির মালিক সঞ্জয় কুমার দাস। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্র্যান্ডের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, এসব কেনাকাটা দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়—চাহিদাপত্র থেকে সরবরাহ পর্যন্ত মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হয়, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী সময় ছিল ৩০ দিন।

একজন ফটোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ জানান, সংসদ অধিবেশন কক্ষের ছবি তোলার জন্য ৪ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্যামেরা সেটই যথেষ্ট। তাই ৫৮ লাখ টাকার এ কেনাকাটা অস্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তবে কার্যাদেশে স্বাক্ষরকারী এক কর্মকর্তা দাবি করেন, একটি কমিটির সুপারিশেই এসব কেনাকাটা হয়েছে এবং তিনি নতুন যোগদান করায় কেবল স্বাক্ষর করেছেন।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি আগের সচিবের তত্ত্বাবধানেই সম্পন্ন হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে অভিযোগ নিয়ে এখনো সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top