নির্বাচনী প্রচারণায় উর্দুর ব্যবহার, ভোটার টানতে নতুন কৌশল
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৭
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সৈয়দপুর শহরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের প্রচারণায় যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা বাংলার পাশাপাশি উর্দু ভাষায় মাইকিং, গান ও স্লোগান ব্যবহার করছেন।
সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকায় মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক, প্রায় ৬০ হাজার, উর্দুভাষী বা অবাঙালি। ২০০৮ সালে ক্যাম্পে বসবাসকারী উর্দুভাষীরা ভোটাধিকার পাওয়ার পর থেকেই এই আসনের নির্বাচনী ফলাফলে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা এখন পরিচিত ‘ভোট মেকার’ হিসেবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজেদের পক্ষে টানতেই প্রার্থীরা নিয়েছেন তাদের মাতৃভাষায় প্রচারণার কৌশল।
বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার বলেন, “এই শহরে বিহারি, বাঙালিসহ বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ মর্যাদা ও শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। একে অপরের ভাষাকে সম্মান করা হয়। সেই সম্মান থেকেই আমরা উর্দুভাষায় প্রচারণা চালাচ্ছি।”
অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক জানান, উর্দুভাষী ভোটাররা যেন সহজেই প্রার্থীর নাম ও প্রতীক চিনতে পারেন, সে উদ্দেশ্যেই উর্দু ভাষায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তাঁর পক্ষে উর্দুতে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে— ‘হারতারফ লাঙ্গল মার্কাকা প্রচার হায়, সিদ্দিক ভাইকা বেড়া পার হায়...’। একইভাবে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকেও উর্দুতে মাইকিং করা হচ্ছে।
এই ভিন্নধর্মী প্রচারণা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শহরের একাংশের বাসিন্দাদের মতে, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষার দেশে উর্দুর এমন ব্যবহার ভাষাগত অনুভূতিতে আঘাত দেয়। তবে অন্য একটি পক্ষ মনে করে, উর্দুভাষীরাও এ দেশের নাগরিক। তাদের নিজ ভাষায় প্রচারণা চালানো মানে তাদের ভাষা ও পরিচয়কে মর্যাদা দেওয়া, এতে আপত্তির কিছু নেই।
উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, “ভোটের সময় প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু আমাদের জীবনমানের তেমন পরিবর্তন হয় না। নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে আমরা এখনও অনেকাংশে বঞ্চিত। তারপরও এবার নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছি।”
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।