মেটা ও ইউটিউবের মুখোমুখি
লস এঞ্জেলেসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলা
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস এঞ্জেলেসে শুরু হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা, যেখানে প্রশ্ন করা হচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
মামলাটি দায়ের করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার এক কিশোরী, যিনি আদালতে কেজিএম নামে পরিচিত। মামলায় তার মা ক্যারেন গ্লেনও বাদী হিসেবে রয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে মেটা এবং ইউটিউব ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহারকারীদের আসক্তি তৈরি করছে। এর মধ্যে আছে—নিরবিচ্ছিন্ন নোটিফিকেশন, ফিডের শেষ না থাকা, ভিডিও শেষ হওয়ার আগেই নতুন ভিডিও শুরু হওয়া ইত্যাদি। এই নকশার ফলে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে থাকেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, সমস্যা কনটেন্টে নয়, বরং প্ল্যাটফর্মের নকশায়। এতে কিশোররা বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। মামলায় আরও বলা হয়েছে, এসব প্ল্যাটফর্মে সাইবার বুলিং বৃদ্ধি পায়, শরীর নিয়ে নেতিবাচক তুলনা হয় এবং অচেনা প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে মামলায় টিকটক ও স্ন্যাপও ছিল, তবে তারা বিচার শুরুর আগেই আলাদা সমঝোতায় গেছে। এখন কেবল মেটা ও ইউটিউব আদালতের মুখোমুখি।
প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মেটা জানিয়েছে, তারা কিশোরদের জন্য নিরাপদ আলাদা অ্যাকাউন্ট এবং অভিভাবকদের জন্য নজরদারি টুল চালু করেছে। ইউটিউব বলেছে, তারা সংবেদনশীল কনটেন্টে বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং কমবয়সী ব্যবহারকারীর শনাক্তকরণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে।
তবে সমালোচকরা মনে করছেন, এগুলো যথেষ্ট নয়, কারণ মূল প্ল্যাটফর্ম নকশা ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তৈরি। এই মামলার রায় প্রযুক্তি খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে—কোম্পানিগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে এবং নকশা ও নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।