মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১১

সংগৃহীত

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত শান্তিবাদী অবস্থান থেকে সরে এসে প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থাকা পুরোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে জাপান। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।

নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন আধুনিক সামরিক অস্ত্র বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি জানান, নতুন নীতির অধীনে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম স্থানান্তর এখন নীতিগতভাবে সম্ভব হবে। তবে কোন ধরনের অস্ত্র রপ্তানি করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। এ তথ্য আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাপানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতিতে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে অস্ত্র ক্রয়কারী দেশগুলোকে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সেগুলোর ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।

সরকারি সূত্র বলছে, অন্তত ১৭টি দেশ এই নীতির আওতায় জাপানের অস্ত্র কেনার সুযোগ পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে চুক্তি বাড়লে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

এর আগে ১৯৬৭ সালের নীতি অনুযায়ী জাপান কেবল অ-প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করতে পারত। নতুন ব্যবস্থাতেও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রাখা হলেও, বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় জাপানি কোম্পানি মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ইয়াসুকুনি শ্রাইন পরিদর্শন ও সেখানে ধর্মীয় উৎসর্গ পাঠানো নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিহতদের স্মরণে তৈরি এই মন্দিরে যুদ্ধাপরাধীদের নামও অন্তর্ভুক্ত থাকায় বিষয়টি চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top