বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রবাসে নৃশংসতা:

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী লিমন-বৃষ্টির হত্যার ভয়াবহ চিত্র উঠে এলো

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২২

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সমাজকে নাড়িয়ে দেওয়া জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তদন্ত সূত্র জানায়, গত ১৬ এপ্রিল সকালে University of South Florida-এর কাছাকাছি নিজ বাসায় সর্বশেষ দেখা যায় জামিল লিমনকে এবং একই দিন ক্যাম্পাসের একটি ভবনে দেখা যায় নাহিদা বৃষ্টিকে। পরদিন তারা নিখোঁজ হলে তদন্তে নামে Hillsborough County Sheriff's Office

এরপর গত শুক্রবার Howard Frankland Bridge এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। ময়নাতদন্তে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা স্পষ্ট করে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে এই হত্যার মূল অভিযুক্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, একই স্থানে বা একই পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়েছে নাহিদা বৃষ্টিকেও, যদিও এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করা যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া রক্তের পরিমাণ থেকে প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর জীবিত নেই। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাক-বিচার আটকাদেশ চেয়ে আদালতে দাখিল করা নথিতে ঘটনাটির ভয়াবহতা ও প্রাপ্ত আলামত বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

নিহত দুই শিক্ষার্থী কেবল সহপাঠীই ছিলেন না, তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কও ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। তারা ভবিষ্যতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন। লিমন পরিবেশ বিজ্ঞান এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করছিলেন।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। পরিবারগুলোও শোকে ভেঙে পড়েছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে লিমনের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফনের দাবিও জানানো হয়েছে।

তদন্ত এখনো চলমান। পুলিশ অভিযুক্তের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে, বিশেষ করে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধারের জন্য। শোকাহত পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটাই দাবি—এই নৃশংস হত্যার পূর্ণ সত্য উদঘাটন এবং দোষীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top