যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির বর্ধিত সময়সীমা আগামী রোববার শেষ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৭
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির বর্ধিত সময়সীমা আগামী রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। বিষয়টি ইসরায়েল-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান (কেএএন)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা তেল আবিবকে নিশ্চিত করেছেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমা খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বড় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
একটি কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসনের অনেক সিদ্ধান্ত তারা সরাসরি না জেনে গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই জানতে পারছেন।
এদিকে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফক্স নিউজ-কে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি সর্বোচ্চ তিন থেকে পাঁচ দিন স্থায়ী হতে পারে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সূত্রগুলো বলছে, পুরো বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত এবং তা অনেকটাই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। পাকিস্তান-এর উদ্যোগে ১১-১২ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে, তবুও আস্থার সংকট বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
পটভূমিতে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলা, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পাল্টা জবাবে ইরানও আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি ইরান গ্রহণযোগ্য কোনো প্রস্তাব না দেয়, তাহলে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
এখন নজর রোববারের দিকে—এর আগেই কোনো কূটনৈতিক সমাধান আসে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।