পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬, ১৩:৫৭

সংগৃহীত

ভারতের বর্তমান শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ-এ সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয় পাওয়ার পর এখন কেবল আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের অপেক্ষা। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন—কে হচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী? দল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করেনি, ফলে বিভিন্ন মহলে একাধিক নাম নিয়ে জোর জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেওয়ার নজির রেখেছে, তাই পশ্চিমবঙ্গেও শেষ মুহূর্তে ভিন্ন কোনো নাম সামনে আসার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে আলোচিত নাম শুভেন্দু অধিকারী। তিনি গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয়ী হয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক শক্তিমত্তা প্রমাণ করেছেন। বিশেষ করে ভবানীপুরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি-কে পরাজিত করা তাকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে একটি বড় যুক্তি হলো, তিনি দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেস-এ ছিলেন এবং তুলনামূলকভাবে নতুন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এছাড়া দলীয় আদর্শিক অভিভাবক আরএসএস-এর সঙ্গে তার পুরোনো সম্পর্ক না থাকাও কিছু ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অন্যদিকে, স্বপন দাশগুপ্ত একটি ভিন্নধর্মী পছন্দ হিসেবে সামনে আসছেন। তিনি মূলত একজন বুদ্ধিজীবী, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, বিশেষ করে কলকাতা-কেন্দ্রিক ‘ভদ্রলোক’ সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বিজেপি যদি এই শ্রেণির ভোটারদের আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের দিকে টানতে চায়, তাহলে তাকে মুখ্যমন্ত্রী করা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে তার বড় সীমাবদ্ধতা হলো মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সংগঠন পরিচালনায় অভিজ্ঞতার অভাব, যা একটি বড় রাজ্যের প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-ও আলোচনায় রয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত এবং আরএসএস-এর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। দলীয় রাজনীতিতে তার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি রয়েছে এবং তিনি কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। ফলে যদি শীর্ষ নেতৃত্ব অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে ‘সমঝোতার প্রার্থী’ হিসেবে তার নাম সামনে আসতে পারে। তবে জননেতা হিসেবে তার প্রভাব ও জনপ্রিয়তা তুলনামূলকভাবে সীমিত—এটিই তার প্রধান দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে অগ্নিমিত্রা পাল-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে পরিচিত এই নেত্রী অল্প সময়ের মধ্যেই রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন এবং আসানসোল থেকে জয়ী হয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। বিজেপির ভেতরে একটি মত রয়েছে যে, দীর্ঘদিনের শাসনের অবসানের পর নতুন সরকারে নারী নেতৃত্ব আনা হলে তা একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। সেই বিবেচনায় অগ্নিমিত্রা পাল একটি সম্ভাব্য চমক হতে পারেন। তবে তার তুলনামূলক কম রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এত বড় দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলতে পারে।

একইভাবে জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ স্মৃতি ইরানি-কেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্র হিসেবেও পরিচিত। বাংলা ভাষায় তার দক্ষতা এবং নিজেকে ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টাও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে তিনি মূলত জাতীয় রাজনীতির নেতা এবং রাজ্য রাজনীতিতে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন।

সব মিলিয়ে, নরেন্দ্র মোদি-এর নেতৃত্বাধীন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে কাকে মুখ্যমন্ত্রী করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দলটি অতীতে বিভিন্ন রাজ্যে অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন মুখকে সামনে এনেছে, তাই এখানেও শেষ মুহূর্তে ভিন্ন কোনো নাম উঠে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে যিনিই নির্বাচিত হন না কেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই প্রথম সরকার গঠন ভারতের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top