বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

যে ৬ ব্যক্তির জন্য রোজার বিধান শিথিল

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:১০

ছবি: সংগৃহীত

রমজান মাস শুরু হতে চলেছে। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মুসলিমদের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে রোজা রাখার শিথিল সুযোগ আছে। মুসাফির, অসুস্থ ব্যক্তি, হায়েজ বা নেফাসগ্রস্ত মহিলা, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলা, দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি এবং নাবালেগ শিশু—এই ছয় শ্রেণির জন্য রোজা রাখার নিয়মে বিশেষ ছাড় রয়েছে।

মুসাফির: যাত্রার সময় রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তবে বেশি কষ্ট না হলে রোজা রাখা উত্তম। সফরের কারণে রোজা না রাখলে পরে সেই দিনের রোজা কাজা করতে হবে। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ মুসাফিরদের জন্য রোজার হুকুম শিথিল করেছেন।

হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত মহিলা: এই অবস্থায় মহিলারা রোজা থেকে বিরত থাকবেন এবং পরবর্তী সময়ে কাজা করবেন। তবে হায়েজ-নেফাস শেষ হওয়ার পর দিনের অবশিষ্ট সময় খাবার বা পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

অসুস্থ ব্যক্তি: যারা রোজা রাখলে রোগ বৃদ্ধি বা সুস্থতায় বিলম্বের আশঙ্কা থাকে, তাদের রোজা না রাখার অনুমতি আছে। সুস্থ হওয়ার পর তারা এই রোজাগুলো কাজা করবেন। সাধারণ অসুস্থতার অজুহাতে রোজা না রাখা বা ভেঙে ফেলা জায়েজ নয়।

গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মহিলা: রোজা রাখলে মা বা শিশুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে রোজা না রাখার অনুমতি আছে। পরে রোজাগুলো কাজা করতে হবে।

দুর্বল বৃদ্ধ ব্যক্তি: বার্ধক্য বা জটিল রোগের কারণে যারা রোজা রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন এবং ভবিষ্যতেও কাজা করার সামর্থ্য নেই, তাদের রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তারা ফিদিয়া প্রদান করতে পারেন।

নাবালেগ শিশু: বাল্যকাল থেকেই রোজার প্রতি অভ্যস্ত করা উত্তম। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সন্তানদেরকে উৎসাহ দিতেন রোজা রাখতে এবং খেলনা বা মনোরঞ্জনের মাধ্যমে তাদের রোজার অভ্যাস গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতেন। বালেগ হওয়ার পর রোজা রাখা ফরজ হয়ে যায়।

রমজানে এই ছয় শ্রেণির জন্য আল্লাহ শিথিলতার সুযোগ রেখেছেন, যাতে রোজা পালন স্বাস্থ্যের বা অবস্থার প্রতি বিবেচনা রেখে নিরাপদভাবে করা যায়। তবে পরবর্তীতে যারা কাজা বা ফিদিয়া দিতে হবে, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top