মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২

শবেবরাতের রাতেও আল্লাহ যাদের ক্ষমা করবেন না

ধর্ম ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৪

সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পবিত্র শবে বরাত এক মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ রজনী। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন। বিশ্বের মুসলমানরা এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, শাবানের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতের শুরু থেকেই আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করতে থাকেন—কে আছে ক্ষমাপ্রার্থী, আমি তাকে ক্ষমা করব; কে আছে রিযিকপ্রার্থী, আমি তাকে রিজিক দেব; কে আছে বিপদগ্রস্ত, আমি তাকে মুক্তি দেব। তাই এ রাতে নিজের পাশাপাশি পরিবার ও উম্মাহর জন্য দোয়া করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, শুধু একটি রাত ইবাদত করলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং শবে বরাত হলো ধারাবাহিক ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসরদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রহমতের সুযোগ।

হাদিস অনুযায়ী, এ মহিমান্বিত রাতেও দুই শ্রেণির মানুষ আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে—এক. মুশরিক, অর্থাৎ যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে; দুই. মুশাহিন, অর্থাৎ যারা হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণ করে।

বিখ্যাত সাহাবি হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মহান আল্লাহ অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৫৬৬৫)

ইসলামে শিরক সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে বিবেচিত। আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে উপাস্য মনে করা বা তাঁর ক্ষমতা ও কর্তৃত্বে অংশীদার করা মারাত্মক অপরাধ। একইভাবে হিংসা ও বিদ্বেষ মানুষের নেক আমল ধ্বংস করে দেয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, “হিংসা থেকে দূরে থাকো। কেননা হিংসা নেক আমলকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন লাকড়িকে ভস্ম করে দেয়।” (সুনানে আবু দাউদ)

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শবে বরাত কোনো ভাগ্য নির্ধারণের রাত নয়। ভাগ্য নির্ধারণের রাত হলো লাইলাতুল কদর। শবে বরাত মূলত আল্লাহর বিশেষ রহমতের রাত, যেখানে আন্তরিক তওবা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top