সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

ভ্লগ বানাতে সালাউদ্দীন সুমন ভাইয়ের সঙ্গে অ্যান্টার্কটিকায় যাচ্ছি

ভ্রমণ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৯

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে ট্রাভেল ভ্লগার সালাউদ্দীন সুমনের সঙ্গে লেখকছবি: নিলয় কুমার বিশ্বাসের সৌজন্যে

বাংলাদেশ থেকে আগেও অনেক ভ্রমণপ্রেমী অ্যান্টার্কটিকায় গেছেন। কেউ গবেষণায়, কেউ অ্যাডভেঞ্চারে, কেউ নিছক স্বপ্নপূরণে। তাদের অনেকে দুর্দান্ত ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।

তবুও আমাদের যাত্রা আলাদা। আমরা যাচ্ছি শুধুই ভ্রমণ করতে নয়, ভ্রমণটা বলার জন্য। সেই গল্প বলার সঙ্গী বাংলাদেশের সবচেয়ে অনুসরণ করা ট্রাভেল ভ্লগার সালাউদ্দীন সুমন। আমাদের লক্ষ্য অ্যান্টার্কটিকার অভিজ্ঞতাকে ক্যামেরার ভাষায় ধরে রাখা, যেন বাংলাদেশের মানুষ ঘরে বসেই বরফের মহাদেশ অনুভব করতে পারেন।

গত ২৮ জানুয়ারি আমরা যাত্রা শুরু করি আর্জেন্টিনার সর্বদক্ষিণের শহর উশুইয়া থেকে, যাকে বলা হয় ‘পৃথিবীর শেষ শহর’। এখান থেকেই পৃথিবীর বেশির ভাগ অ্যান্টার্কটিকা অভিযান শুরু হয়।

আমরা নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনের জাহাজে ওঠি। যাত্রার প্রথম দুই দিন কাটে বিগল চ্যানেল পাড়ি দিয়ে। এই চ্যানেলে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর একে অন্যকে ছুঁয়ে যায়। ঢেউয়ের তালে তালে ক্যামেরা হাতে আমরা বারবার চেষ্টা করেছি সমুদ্রের রূপ ধরে রাখতে।

দুই দিন সমুদ্রযাত্রার পর আমাদের প্রথম ল্যান্ডিং হয় ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে। আর্জেন্টিনার খুব কাছাকাছি হলেও এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে। ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধও বেশ পুরোনো। ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ডে সামরিক অভিযান চালায়, তবে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

ফকল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দুটি দ্বীপ হলো পশ্চিম ফকল্যান্ড ও পূর্ব ফকল্যান্ড। সঙ্গে আছে আরও অন্তত ২০০টি ছোট দ্বীপ। লাতিন আমেরিকায় ফকল্যান্ডকে ‘মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জ’ বলা হয়।

আমাদের মনে গেঁথে গেছে ফকল্যান্ডের বন্য প্রাণীর জন্য। প্রথমেই গেলাম পেঙ্গুইন কলোনিতে। এখানে আছে কিং, জেনটু ও ম্যাগেলানিক প্রজাতির পেঙ্গুইন। বিশেষ মোহিত করেছে কিং পেঙ্গুইন, যেন বরফের রাজ্যের রাজকীয় বাসিন্দা।

এরপর দেখলাম বিশাল ডানার সামুদ্রিক পাখি অ্যালবাট্রস, যা আকাশে ভেসে থাকা এক জীবন্ত বিস্ময়। শেষপর্যায়ে ঘুরলাম রাজধানী স্ট্যানলি, ছোট্ট, শান্ত ও রঙিন শহর। এখানে আর্জেন্টিনীয় মুদ্রা চলে না; লেনদেন হয় পাউন্ড, ডলার, ইউরো বা কার্ডে।

ফকল্যান্ড থেকে সাউথ জর্জিয়া পৌঁছাতে লাগে আড়াই দিন। সেখানে চোখে পড়ে লাখ লাখ কিং পেঙ্গুইন। চারপাশে শুধু ফার সিল ও এলিফ্যান্ট সিলের উপস্থিতি। বিশ্বের ৯৫ শতাংশ অ্যান্টার্কটিক ফার সিলের বসতি সাউথ জর্জিয়ায়। আমরা নৌকায় ঘুরে ঘুরে এই বন্য প্রাণীর জীবন ক্যামেরায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

আজ আমাদের অভিযানের এগারোতম দিন। আমরা আছি অ্যান্টার্কটিকা পেনিনসুলার পথে। এই ট্রিপে অংশ নিয়েছেন ২১টি দেশের ভ্রমণকারী। উশুইয়া থেকে অ্যান্টার্কটিকা ঘুরে আবার উশুইয়ায় ফিরে আসার এই প্যাকেজের খরচ প্রতিজন ১২,৬৫০ ডলার (চারজনের কেবিন)। ঢাকা–বুয়েনস আইরেস–উশুইয়া বিমানভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে একজনের মোট ব্যয় প্রায় ২০ লাখ টাকা।

অ্যান্টার্কটিকায় যাওয়ার মৌসুম সাধারণত অক্টোবরের শেষ থেকে মার্চ পর্যন্ত। এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল। অন্য সময় তীব্র ঠান্ডা ও বরফের কারণে জাহাজ চলাচল প্রায় অসম্ভব। পুরো অভিযানটি ২০ দিনের এবং শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top