‘মরে যেতে চেয়েছিলাম এক সময়’:মেসি
স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:১২
ফুটবল বিশ্বের কিংবদন্তি তিনি—গ্রেটেস্ট অব অল টাইম (গোট)। কিন্তু নিজের বাড়িতে লিওনেল মেসি আর পাঁচজন সাধারণ স্বামী ও বাবার মতোই। বাসায় তিন সন্তান যখন দৌড়ঝাঁপ আর চিৎকারে মুখর করে তোলে চারপাশ, তখন তিনিও খানিকটা শান্তির খোঁজে একাকিত্ব উপভোগ করেন। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিজীবনের নানা না বলা গল্প শেয়ার করেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
গত মাসে নেওয়া সেই কথোপকথনের নির্বাচিত অংশ মঙ্গলবার লুজু টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়। সেখানে মেসি জানান, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তি তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়, যদিও টিকটক দেখতে তিনি দারুণ উপভোগ করেন। সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথাও—যখন হতাশা এতটাই গ্রাস করেছিল যে তাঁর মনে হয়েছিল, বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো।
মেসি বলেন,
“কখনোই হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। চেষ্টা করে যেতে হয়। পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়াতে হয়। তাতেও সফল না হলে অন্তত এটা জানা থাকবে—নিজের স্বপ্নের জন্য যা যা করা সম্ভব, সবই করেছি।”
মেসির জীবনের সেই অন্ধকার সময়টি ছিল প্রায় দশ বছর আগে। বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব ফুটবলে চূড়ায় থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছিলেন না তিনি। ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর হতাশায় ডুবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে মেসি বলেন,
“খুব অনুশোচনা হয়েছিল। সত্যিই মরে যেতে চেয়েছিলাম। তবে সবাইকে নিজের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই যেতে হয়। ভালো হয়েছে যে মানুষের কথায় কান না দিয়ে আবার আর্জেন্টিনা দলে ফিরতে পেরেছিলাম।”
সেই প্রত্যাবর্তনই বদলে দেয় সবকিছু। এরপর আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েন মেসি। আজও দেশের হয়ে খেলাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় গর্ব।
ইউরোপ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার পর পরিবারকে আগের চেয়ে বেশি সময় দিতে পারছেন মেসি—এটাই তাঁর কাছে এখন জীবনের সেরা অধ্যায়। তিনি বলেন,
“বাড়িতে আমি একদম সাধারণ মানুষ। আমার তিন সন্তান যখন সবকিছু এলোমেলো করে ফেলে, তারপর হঠাৎ শান্ত হয়ে যায়—সেই মুহূর্তের একাকিত্ব আমি উপভোগ করি। আমি দিনের শুরুটা খুব পরিকল্পিতভাবে করি, মাঝখানে কিছু বদলে গেলে সব তালগোল পাকিয়ে যায়।”
এখনও তাঁর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ও সমালোচক তাঁর বাবা।
“আমার খেলার সবচেয়ে বড় সমালোচক আমার বাবা। ম্যাচের পর এখনও আমার ভুলগুলো ধরিয়ে দেন। আমরা নিয়মিত খেলা নিয়ে কথা বলি,” বলেন মেসি।
৩৮ বছরে পা দেওয়া এই মহাতারকার অবসর-পরবর্তী পরিকল্পনাও উঠে আসে সাক্ষাৎকারে। কোচিংয়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর।
“নিজেকে আমি কখনোই কোচ হিসেবে দেখি না। ম্যানেজার হওয়া বা নিজের ক্লাব থাকা—এই ভাবনাগুলো আমার ভালো লাগে। শূন্য থেকে একটি ক্লাব গড়ে তুলব, যেখানে শিশুরা বেড়ে ওঠার ও কিছু অর্জনের সুযোগ পাবে।”
ইতোমধ্যেই উরুগুয়েতে বন্ধু লুইস সুয়ারেজের একটি ক্লাবের মালিকানায় যুক্ত হয়েছেন মেসি, যা তাঁর পরবর্তী অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মজার বিষয় হলো, যেখানে মেসি এআই প্রযুক্তির বিপক্ষে, সেখানে তাঁর স্ত্রী আনতোনেলা রোকুজ্জু চ্যাটজিপিটির বড় ভক্ত।
“রান্নার রেসিপি থেকে শুরু করে সবকিছুতেই সে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে। আর আমি স্প্যানিশেই স্বচ্ছন্দ। ইংরেজির জন্য এআই ব্যবহার করি না। তবে টিকটক দেখি—ওখানে আমাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, এমন ভিডিও দেখলে বেশ মজা লাগে,” হাসতে হাসতে বলেন মেসি।
পুরো সাক্ষাৎকারজুড়ে লিওনেল মেসি নিজেকে তুলে ধরেছেন একজন সাধারণ আর্জেন্টাইন মানুষ হিসেবেই—যার জীবনে আছে সাফল্যের ঝলকানি, ব্যর্থতার অন্ধকার আর পরিবারকে ঘিরে স্বাভাবিক সুখের গল্প।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।