যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের উত্তেজনার মধ্যে আলোচনার ইঙ্গিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৬
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে উঠলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার দিকে এগোচ্ছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান “গুরুত্বপূর্ণভাবে” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় জড়িত। তিনি জানান, এ বিষয়ে তেহরানও কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত চুক্তিতে ইরান কতটা সম্মত হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। গুরুত্বপূর্ণভাবেই কথা বলছে। আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।” তিনি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে মার্কিন নৌবহরের কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন।
এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, “মিডিয়া যুদ্ধের কৃত্রিম বর্ণনার বিপরীতে, আলোচনার কাঠামো তৈরি করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।”
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন ও পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) শুক্রবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনব্যাপী নৌ মহড়া চলাকালীন অনিরাপদ আচরণ সংঘর্ষ বাড়াতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হুমকি বন্ধ করলে তারা আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, “যে বাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, সেন্টকম সেই বাহিনীর কাছেই পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করছে। এটাই বিস্ময়কর।”
আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি তেহরানে আলি লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত প্রতিরোধে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালাচ্ছে। ন্যাটোভুক্ত দেশ তুরস্ক ইরানে কোনো বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছে এবং সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।