ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ১১ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এরপর থেকে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে তেহরান। ইরানি হামলার প্রভাব পড়েছে কাতার, বাহরাইন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে। ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলার প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
চলতি সপ্তাহে কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই ব্যয়ের প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটরদের জন্য আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই হিসাব উপস্থাপন করা হয়। তবে এটি যুদ্ধের মোট ব্যয় নয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সংঘাত নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে আইনপ্রণেতাদের বাড়তে থাকা চাপের মুখে এই প্রাথমিক হিসাব প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউস।
কংগ্রেসের কয়েকজন সহকারী জানিয়েছেন, যুদ্ধের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে হোয়াইট হাউস শিগগিরই কংগ্রেসের কাছে নতুন তহবিলের আবেদন জানাতে পারে। কিছু কর্মকর্তার মতে, এই আবেদনের পরিমাণ প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। তবে অনেকে মনে করছেন, প্রকৃত ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
যুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হতে পারে বা এর মোট ব্যয় কত হতে পারে, এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি। বুধবার কেন্টাকি সফরের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইরানে অন্তত দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই ইরানি ও লেবানিজ নাগরিক। সংঘাত লেবাননেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, হামলার প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে।
কংগ্রেসের সদস্যরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত কমিয়ে দিচ্ছে। এমন এক সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যখন মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প আগেই বাড়তি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল।
সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করতে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাতটি বড় প্রতিরক্ষা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং সংঘাত শেষে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পরিকল্পনা কী—সেসব বিষয়েও তারা জবাবদিহিতা চেয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।