আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বাংলাদেশের সংসদের গভীর শোক
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩১
যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। অধিবেশনের শুরুতেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, খামেনির মৃত্যুতে বিশ্ব একজন মহান নেতা, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাকে হারিয়েছে। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে।
শোকপ্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৬ বছর বয়সে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। তার মৃত্যুতে ইরানে সাত দিনের সরকারি ছুটি ও চল্লিশ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
তার শিক্ষাজীবন ও রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা তিনি মাশহাদের ইসলামী বিদ্যালয়ে শেষ করেন এবং পরবর্তীতে নাজাফ ও কোমের উচ্চতর শিক্ষা কেন্দ্রে ধর্মতাত্ত্বিক পড়াশোনা করেন। এই সময় আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির সান্নিধ্যে আসেন এবং শাহ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জড়িয়ে বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন।
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, এই শোক প্রস্তাব পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইরানের প্রয়াত নেতার শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে প্রেরণ করা হবে।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর খামেনি ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮০ সালে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন। তার অধীনে আইআরজিসি একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।