ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন স্থগিত ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:২৫
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হামলার সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের অনুরোধেই তিনি বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তার ভাষ্য, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করেছে ইরান, তারা বলছে এ ধরনের কোনো আলোচনা হয়নি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় হামলা চালানো হবে। পরে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে প্রথমে ৫ দিন সময় বাড়ানো হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই সময়সীমা আরও ১০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসামরিক অবকাঠামো- বিশেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যদি তা সরাসরি সামরিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত না থাকে।
চলমান সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চুক্তির জন্য অনুরোধ জানাচ্ছে। তবে তেহরান এ বক্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছে, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে পুরো অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ আরও তীব্র হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আলোচনার দাবি, অন্যদিকে সামরিক হুমকি এই দ্বিমুখী অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। মার্কিন গণমাধ্যমে ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের কথাও আলোচিত হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বর্তমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান এই সংকট বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।