সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান শান্তি আলোচনা ভেস্তে গেল

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৭

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। টানা দীর্ঘ বৈঠক, একাধিক প্রস্তাব ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরও দুই পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় ভেস্তে যায় বহুল প্রত্যাশিত এই আলোচনা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার মূল কারণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর ও অযৌক্তিক’ অবস্থান। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের কিছু শর্ত এমন ছিল, যা যুদ্ধক্ষেত্রেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

৪০ দিনের সংঘাতের পর শনিবার পাকিস্তানের উদ্যোগে সরাসরি আলোচনায় বসে দুই দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় উভয় পক্ষই ইসলামাবাদ ত্যাগ করে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই বলেন, “একটি বৈঠকেই সমঝোতা হবে—এমন প্রত্যাশা শুরু থেকেই বাস্তবসম্মত ছিল না।”

তিনি আরও জানান, এই আলোচনা মূলত দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র এবং ভবিষ্যতেও পাকিস্তানসহ অন্যান্য মিত্র দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় এমন কিছু শর্ত দিয়েছে যা ‘অগ্রহণযোগ্য’। ফার্স নিউজ এজেন্সির মতে, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছিল এবং কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছিল।

হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এসব ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোকে ‘অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।

আলোচনা ভেস্তে গেলেও ইরান জানিয়েছে, বিষয়টি এখন কারিগরি পর্যায়ে গেছে। উভয় পক্ষ লিখিত প্রস্তাব ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের খসড়া বিনিময় করছে। যদিও নতুন করে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো হয়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরান পাল্টা হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চরম অস্থিরতা দেখা দেয়।

ইসলামাবাদের এই বৈঠককে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হিসেবে দেখা হলেও, প্রথম দফায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top