একই পরিবারের ৪ জনের রহস্যজনক মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১৪
ভারতের মুম্বাই শহরে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিরিয়ানি খাওয়ার পর তরমুজ খাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে—এমন ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ফাইদোনিয়া এলাকায় ২৫ এপ্রিল রাতে পরিবারের নয় সদস্য একসঙ্গে খাবার খান। পরে গভীর রাতে চারজন তরমুজ খাওয়ার পর ভোরের দিকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে বমি, ডায়রিয়া ও চরম দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
আক্রান্তদের দ্রুত স্যার জেজে হসপিটাল-এ ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে চারজনের মৃত্যু হয়। মৃতরা হলেন আবদুল্লাহ দোখাদিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাসরিন দোখাদিয়া (৩৫) এবং তাদের দুই মেয়ে আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১৩)।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সন্দেহ করা হলেও, চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে চিকিৎসকরা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে নাকচ করেছেন। কামা অ্যান্ড আলব্লেস হাসপাতাল-এর চিকিৎসক তুষার পালভি বলেন, “বিরিয়ানি খাওয়ার পর তরমুজ খেলে মৃত্যু হতে পারে—এমন কোনও চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণ নেই। বরং এখানে বিষাক্ত বা রাসায়নিক উপাদানের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনা বেশি।”
চিকিৎসকদের মতে, তরমুজ দূষিত হতে পারে যদি তা কেটে দীর্ঘ সময় খোলা রাখা হয়, অপরিষ্কার ছুরি দিয়ে কাটা হয় বা দূষিত পানিতে ধোয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে অসাধু বিক্রেতারা ফলকে সতেজ দেখাতে কৃত্রিম উপায়ে পানি বা চিনি প্রবেশ করায়, যা ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
ডা. সঞ্জয় সুরাজ, স্যার জেজে হসপিটাল-এর সুপারিনটেনডেন্ট, জানান—রোগীদের অবস্থা যেভাবে দ্রুত অবনতি হয়েছে, তা সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো নয়; এতে অন্য কোনও বিষাক্ত উপাদান জড়িত থাকতে পারে।
অন্যদিকে ডা. আনিকেত মুলে বলেন, দিনে বা রাতে তরমুজ খাওয়ার সঙ্গে গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই।
বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার পরিবেশে কাটতে হবে এবং দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।