শনিবার, ২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩

এশিয়ার আট দেশের ১৬টি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ মে ২০২৬, ১৪:৩৪

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও তাদের মিত্রদের ধারাবাহিক হামলায় পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে কিছু ঘাঁটি বর্তমানে কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির যে কৌশলগত অবস্থান ছিল, সাম্প্রতিক হামলার কারণে তার একটি বড় অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে ওয়াশিংটনের ভেতরে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণে কয়েক ডজন কৃত্রিম উপগ্রহ চিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সূত্রের সাক্ষাৎকার পর্যালোচনা করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, কিছু স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে এবং কোনো কোনো ঘাঁটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে।

অন্যদিকে কিছু সামরিক কর্মকর্তা মনে করছেন, কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় বিপুল ব্যয়ে হলেও এসব স্থাপনা পুনরায় নির্মাণ ও মেরামত করা প্রয়োজন। তারা পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলছেন, এর আগে এমন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষা কাঠামো পড়েনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান পরিকল্পিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মূলত উন্নত রাডার ব্যবস্থা, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, রাডার ব্যবস্থা ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোই প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল। এই ধরনের সরঞ্জাম পুনরায় স্থাপন করা অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ এবং দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ব্যয় প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। তবে ভেতরের কিছু সূত্রের দাবি, প্রকৃত ব্যয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হতে পারে।

এই বিপুল আর্থিক ও সামরিক ক্ষতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক সৌদি কর্মকর্তা মন্তব্য করে বলেন, এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতা সব সময় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না।

ইরান এর আগে দাবি করে আসছে, তাদের ওপর হামলার জন্য এই অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছিল, আর সেই কারণেই তারা আত্মরক্ষার অংশ হিসেবে পাল্টা আঘাত হেনেছে। সূত্র: সিএনএন

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top