চার সন্তানের জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩৫
নরসিংদীর মাধবদীতে ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী চার সন্তানের জননী। এ ঘটনায় জড়িত রিদয় মিয়া (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিকেলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করছেন।
ঘটনার দিন বিকেলে তিনি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আড়াইহাজার পৌর এলাকার একটি বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে যান। মেয়ের জন্য জামা কেনার পর ইফতারের আগেই তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এ সময় কয়েক দিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা হওয়া কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়া জানতে পারে তিনি আড়াইহাজারে আছেন এবং দেখা করার প্রস্তাব দেয়।
পরে ওই নারী একাই অটোরিকশায় রাতে মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান। সেখানে রিদয়ের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে রিদয় তাকে জোর করে রাস্তা থেকে পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আরও তিনজন মিলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।
ঘটনার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে বলে। পরে তিনি দৌড়ে পাশের একটি পাওয়ারলুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং ঘটনাটি শ্রমিকদের জানান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এরপর ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করলে প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে বিষয়টি আড়াইহাজার থানা জানতে পারলেও ঘটনাস্থল নরসিংদীর ভেতরে হওয়ায় মাধবদী থানাকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তিনি আরও জানান, মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয়ও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে ভুক্তভোগী নারীর চিকিৎসা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।