শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

আদমদীঘিতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৯

সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মরিয়ম বেগম নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে উপজেলার জিনইর গ্রামে স্বামী ফেরদৌস প্রামাণিকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে মরিয়ম বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত মরিয়ম বেগম নওগাঁ জেলার রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের মৃত জামাল সরদারের মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে আদমদীঘি উপজেলার জিনইর গ্রামের ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে ফেরদৌস প্রামাণিকের সঙ্গে মরিয়ম বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

কয়েক বছর আগে ফেরদৌস প্রামাণিক কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় প্রায় আড়াই বছর আগে তিনি আদমদীঘি উপজেলার কোমারপুর গ্রামের রহিউদ্দীনের মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে তার পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়।

প্রায় দুই মাস আগে ফেরদৌস দেশে ফিরে আসেন। এরপর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ চলছিল বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার সকালে ফেরদৌস প্রামাণিক প্রথম স্ত্রীকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির মাটির ঘরের দ্বিতীয় তলায় তীরের সঙ্গে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় মরিয়ম বেগমকে ঝুলতে দেখেন প্রতিবেশীরা। এরপর থেকেই ফেরদৌস প্রামাণিককে এলাকায় আর দেখা যায়নি।

নিহতের ভাই মহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top