ফেনী থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাহানা আক্তার সানু। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছড়াইতকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।
অ্যাডভোকেট সাহানা আক্তার সানু জানান, তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৭ সালে সোনাগাজী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে। পরে ১৯৯১ সালে ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দুই দফা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ওই পদে বহাল রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির রাজনীতির কারণে তাকে ও তার পরিবারকে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ফেনীর আলোচিত সাবেক নেতা জয়নাল হাজারীর অনুসারীদের হাতে তার পিতা ও ভাইদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ২০১৪ সালে ঢাকায় তার বাসভবনে একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটে। আইনজীবী পেশায় যুক্ত থাকলেও এখনো তিনি বহু গায়েবি মামলার আসামি হিসেবে আদালতে ঘুরতে হচ্ছে বলেও জানান।
ব্যক্তিগত জীবনে অ্যাডভোকেট সাহানা আক্তার সানু তিন সন্তানের জননী। তার স্বামীর বাড়ি ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় এবং তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং বর্তমানে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। মেজ ছেলে কম্পিউটার প্রকৌশলী হিসেবে একটি বেসরকারি বিমান সংস্থায় কর্মরত এবং ছোট ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
অ্যাডভোকেট সানু বলেন, অবহেলিত ফেনী-৩ আসনের মানুষের ন্যায্য দাবি জাতীয় সংসদে তুলে ধরা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করাই তার লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলীয় সব আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে এক-এগারোর পর থেকে তিনি কখনো রাজপথ ছাড়েননি। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছেন বলেও জানান তিনি।
দলীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের মহিলা দলের কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। অতীতে তিনবার সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন এবং একবার সরাসরি মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানান।
তিনি বলেন, দলের নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ফেনীর অন্য দুই আসনেও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন।
দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার চলাকালে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ও পরে আদালতে মামলার শুনানিতে তিনি নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন এবং দলীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন বলেও জানান।
সাহানা আক্তার সানু বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন বিভিন্ন মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব ত্যাগের মূল্যায়ন করে দল তাকে যথাযথভাবে বিবেচনা করবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।