৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের অভিযোগ তুলে শিবলী সাদিকের স্ত্রী আত্মহত্যা চেষ্ঠা
দিনাজপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৮
দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে হাকিমপুরে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেন খাদিজা। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসা আল আশারী জানিয়েছেন, বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার আগে সোমবার বিকাল ৫টা ৪৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন খাদিজা। সেখানে তিনি দীর্ঘ ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে নির্যাতন ও অবিচারের অভিযোগ তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, দীর্ঘদিন ধরে অন্যায়-জুলুম সহ্য করতে করতে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং শান্তিতে বিশ্রাম নিতে চান। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই তিনি এসব পরিস্থিতির শিকার হচ্ছিলেন বলে উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় নিজের স্বামী শিবলী সাদিক, কথিত এক বান্ধবী ববি ইসলামসহ কয়েকজনকে দায়ী করেছেন খাদিজা। তিনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী একজন আত্মকেন্দ্রিক ব্যক্তি এবং তাকে দীর্ঘদিন মানসিকভাবে কষ্ট দিয়ে আসছেন।
এছাড়া ববি ইসলাম নামের এক নারীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নিজের দাম্পত্য জীবনের ত্যাগ ও প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ায় তিনি ভেঙে পড়েন বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।
পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে খাদিজা লিখেছেন, তার এই সিদ্ধান্ত ভুল হলেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে শিবলী সাদিক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমাকে বিয়ে করেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে খাদিজা মল্লিক সীমুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।