কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘তাজু ভাই ২.০’ খ্যাত মোঃ তাইজুল ইসলাম এখনও তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও আর্থিক সংকট ও জীবনের সংগ্রাম থেকে মুক্তি মেলেনি তার।
সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে একটি ভিডিওতে স্থানীয় আঞ্চলিক ভাষায় জিলাপির দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলে আলোচনায় আসেন তাইজুল। সাংবাদিকদের মতো বুম হাতে উপস্থাপিত সেই ভিডিওটি নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ দর্শক দেখেছেন।
জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম কখনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। অভাব-অনটনের মধ্যেই বড় হওয়া এই তরুণ নিজ এলাকার নানা সমস্যা তুলে ধরতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি শুরু করেন। তার সরল উপস্থাপনা দ্রুতই মানুষের নজর কাড়ে।
ভাইরাল হওয়ার পর তার ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’-এর অনুসারী সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বেড়ে লাখ ছাড়িয়েছে। তবে এখনো পেজটি মনিটাইজেশন সুবিধা না পাওয়ায় কোনো আয় করতে পারছেন না তিনি। এতে কিছুটা হতাশ হয়ে আবার আগের পেশা রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙনের কারণে ভিটেমাটি হারিয়ে বর্তমানে অন্যের জায়গায় বসবাস করছে তাইজুলের পরিবার। সংসারে রয়েছে অসুস্থ বাবা-মা ও ভাইবোনদের দায়িত্ব। সীমিত আয়ে তাদের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মোঃ কবিরুল ইসলাম বলেন, তাইজুলের পরিবার অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তার এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তাকে সহযোগিতা করার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।
তাইজুল ইসলাম বলেন, “আমি কোনো সাংবাদিক নই। আমাদের এলাকার সমস্যাগুলো কেউ তুলে ধরে না বলেই ভিডিও করি। সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই আমার উদ্দেশ্য। মানুষ আমাকে ট্রল করলেও কষ্ট পাই না, আমি চাই আমাদের চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।”
মাত্র আট হাজার টাকার একটি মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও তৈরি শুরু করা তাইজুল এখনো স্বপ্ন দেখছেন একদিন তার প্রচেষ্টা এলাকার মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে। তবে সেই স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন সহায়তা ও সুযোগের।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।