দেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি, সতর্কতা ও চিকিৎসার গুরুত্ব
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬
দেশে হঠাৎই বেড়েছে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। অনেক রোগীর মৃত্যু হওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হাম কী?
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে অন্যজনকে সংক্রমিত করে। অত্যন্ত সংক্রামক এ রোগকে জার্মান মিজলস, মাম্পস ও রুবেলা নামেও পরিচিত।
হাম আক্রান্তের প্রক্রিয়া
অ্যাপোলো হসপিটালের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শরীরে হামের ভাইরাস প্রবেশের পর তা দ্রুত গলা, ফুসফুস, লিম্ফ নোডের মতো এলাকায় বৃদ্ধি পায় এবং চোখ, মূত্রনালী, রক্তনালী ও মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণত ভাইরাস সংস্পর্শে আসার ৯-১১ দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়।
হামের লক্ষণ
- তীব্র জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত)
- সর্দি ও কাশি
- চোখ লাল হওয়া
- সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি
হাম হলে করণীয়
আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাড়ির বাইরে বের হতে দেবেন না; বিশ্রামে রাখা জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া আবশ্যক।
রোগীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে; নিয়মিত গোসল করানো এবং ভেজা তোয়ালে বা নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া।
বেশি জ্বর, বমি, চুলকানি বা ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
হাম আক্রান্ত রোগীর খাদ্যাভ্যাস
হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক সৈয়দ আফজালুল করিম বলেন, রোগীর দ্রুত আরোগ্যের জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। কিছুক্ষণ অন্তর অন্তর তরল খাবার দেওয়া উচিত। কমলা, তরমুজ, ডাবের মতো ফল রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সাহায্য করে।
সতর্কবার্তা
হাম আক্রান্ত রোগীর সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা না করলে নিউমোনিয়া, কানে সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে ম্যালিডাইসিসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ভবিষ্যতে হাম থেকে রক্ষা পেতে শিশুর নিয়মিত ভ্যাকসিনেশন বা টিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।