কুমিরের ভিডিও ভাইরাল: জিডি, তদন্ত কমিটির পর সেই কুকুরের পোস্টমর্টেম
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৬
বাগেরহাটে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমিরের শিকার করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি, তদন্ত কমিটি গঠন শেষে এবার কুকুরটির মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী।
তিনি জানান, কুকুরটির মাথা রাজধানীর কেন্দ্রীয় রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে ৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরটি কুকুরটিকে পানির নিচে টেনে নেয়। এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। কেউ দাবি করেন, কুকুরটিকে বেঁধে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে, আবার কেউ অভিযোগ তোলেন—মাজারের খাদেমরা কুমিরকে কুকুর খাওয়ান।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের দাবি, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং কয়েকজনকে কামড় দেওয়ার পর নিজেই ঘাটের দিকে চলে যায়। পরে পানিতে নামলে কুমিরটি সেটিকে ধরে নিয়ে যায়। কিছু সময় পর দিঘির অন্য পাশে কুকুরটির মরদেহ ভেসে ওঠে এবং খাদেমরা সেটি মাটিচাপা দেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কুকুরটি ঘাটে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিল। একপর্যায়ে গভীর পানিতে যেতে গেলে কুমিরটি ধীরে ধীরে কাছে এসে মুহূর্তেই সেটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়।
ঘটনার দিন দিঘির প্রধান ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিসহ কয়েকজনকে কুকুরটি কামড় দেয় বলেও জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটি একটি শিশুসহ একাধিক মানুষকে আক্রমণ করে এবং কয়েকটি গৃহপালিত প্রাণীও মেরে ফেলে।
স্থানীয় এক যুবক জানান, কুমিরটি সম্প্রতি ডিম পাড়ায় আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল। ঘটনাস্থলে বহু মানুষ থাকলেও কুমিরের মুখ থেকে কুকুরটিকে উদ্ধারের সাহস কারও ছিল না।
মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে পানিতে ফেলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও রয়েছেন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের এক সদস্য বলেন, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুরটিকে কুমিরের সামনে দিয়ে থাকে, তবে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জেলা প্রশাসক জানান, মাজারের দিঘিতে কুমিরকে কখনোই কুকুর খেতে দেওয়া হয় না। কুসংস্কারের কারণে কেউ জীবন্ত প্রাণী নিক্ষেপের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, মাজার সংলগ্ন দিঘিতে বর্তমানে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। অতীতে আনা একাধিক কুমিরের মধ্যে এটিই এখন জীবিত আছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।