শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২

অন্যায়-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিলে পার্লামেন্টে মারামারি শুরু হবে: এ্যানি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৮

ছবি: সংগৃহীত

অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হলে সংসদে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল কথা বলবে এবং সরকারি দল তার জবাব দেবে এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে কেউ যদি অন্যায় ও দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে সংসদে বিশৃঙ্খলা ও হাতাহাতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই প্রতিটি কথা ও কাজের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নের কাশিপুর-ডামোশ গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত খালের মোড়ে প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেন এবং ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা পরে বেগম খালেদা জিয়ার সময়ও অব্যাহত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, পরে দীর্ঘ সময় এই কর্মসূচি বন্ধ থাকায় খালগুলোতে পলি জমেছে এবং অনেক জায়গা দখল হয়ে গেছে। খালের জমি দখল করতে হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়—তবুও বিগত সময়ে এসব নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে খাল খনন কর্মসূচি চালু থাকায় দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। তিনি বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকেরা উপকৃত হবেন।

তিনি আরও বলেন, অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতা, গুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে অনেক নেতাকর্মীকে। তবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের কথা অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার করা হবে—এটাই তাদের অঙ্গীকার।

তিনি আরও জানান, কৃষকদের স্বার্থে কৃষিঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার পাঁচশ কোটি টাকা। কৃষিকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তা বৃদ্ধি করাই সরকারের লক্ষ্য।

দীর্ঘদিন খাল রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি খাল দখল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক কোটি একান্ন লাখ টাকার এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরাসরি পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top