বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩

কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক, এআই ছবি ও গুজবের অবসান

সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:১৪

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড পাওয়া কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্ক ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্তে। এআই নির্ভর ছবি ও আংশিক তথ্যের ভিত্তিতে তাকে ‘অপ্রকৃত কৃষক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও যাচাই-বাছাইয়ে উঠে এসেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কবির হোসেন একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক এবং নীতিমালা অনুযায়ী তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য।

গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির কাছ থেকে কার্ড গ্রহণ করেন ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের বাসিন্দা কবির হোসেনসহ ১৫ জন কৃষক। অনুষ্ঠানে কৃষক হিসেবে সাবলীলভাবে বক্তব্যও দেন তিনি। তবে অনুষ্ঠান শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু ছবি ভাইরাল হয়ে তাকে বিত্তশালী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

পরদিন বিকাল ও ১৭ এপ্রিল সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কবির হোসেনের বাস্তব জীবন সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি একটি সাধারণ টিনের ঘরে বসবাস করেন। বাড়ির সামনে সবজি চাষ এবং পেছনে গরু, হাঁস-মুরগি পালন করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। নিজের প্রায় ১৩ শতাংশ জমির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বর্গা চাষের মাধ্যমে কৃষিকাজ করে আসছেন তিনি। এলাকাবাসীর কাছেও তিনি একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই পরিচিত।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কবির নিয়মিত কৃষিকাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু কনটেন্ট তৈরি করেন। এই দুই ধরনের কাজ একসঙ্গে করায় অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছেন। তবে তার মূল পেশা যে কৃষিকাজ এ বিষয়ে কারও মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কৃষক কার্ড কার্যক্রম নিয়েও সেই ধারাবাহিকতায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়তে থাকলে কৃষি প্রশাসন সরেজমিনে তদন্তে নামে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তারা নিশ্চিত করেন, কবির হোসেন একজন প্রকৃত কৃষক এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও ঘটনাটি খতিয়ে দেখে। ১৫ এপ্রিল জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড নীতিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী কবির হোসেন একজন প্রান্তিক কৃষক হিসেবে কার্ড পাওয়ার যোগ্য। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

নিজের অবস্থান তুলে ধরে কবির হোসেন বলেন, তিনি বাবার রেখে যাওয়া সামান্য জমি ও বর্গা চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানান কবির।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তার পক্ষে কথা বলেছেন। তাদের মতে, কবির দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং তার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সরেজমিন তদন্তে কবির হোসেনকে প্রকৃত কৃষক হিসেবেই পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি আরও জানান, কৃষকদের সম্মানিত করতে যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা নিয়ে কেউ যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top