বৃহঃস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

ভাইরাল ভিডিওতে কিরিচ হাতে ছাত্রদল নেতা, ব্যাখ্যায় যা বললেন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৭

চট্টগ্রামের ছাত্রদল নেতা মির্জা ফারুক

চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজ এলাকায় গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা ব্যবহারের অভিযোগ উঠে।

সংঘর্ষ চলাকালে কলেজসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পক্ষই অবস্থান নেয় পৃথক এলাকায়—কলেজের সামনে ছাত্রদল এবং নিউমার্কেট এলাকায় ছাত্রশিবির। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।

এ ঘটনার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি ভিডিও, যেখানে নীল শার্ট পরিহিত এক যুবককে হাতে বড় কিরিচ নিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে জানা যায়, তিনি চট্টগ্রামের এম ই এস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মির্জা ফারুক। ভিডিওটি ভাইরাল হলে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মির্জা ফারুক দাবি করেছেন, অস্ত্রটি তার নয়। তিনি বলেন, সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের ফেলে যাওয়া ওই অস্ত্রটি তিনি পুলিশকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। তার ভাষ্য, “তারা আমাদের ওপর হামলা করলে আমরা প্রতিরোধে যাই। তখন তারা অস্ত্র ফেলে দেয়। সেটি নিয়েই আমি পুলিশকে দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলাম। কিন্তু সেই মুহূর্তের ছবি তুলে আমাকে বিতর্কিত করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এতে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।


রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় প্রায়ই দেখা যায়, দায় এড়াতে প্রতিপক্ষের ওপর অভিযোগ চাপানোর প্রবণতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে কোনো ঘটনার আংশিক ভিডিও বা ছবি দ্রুত ভাইরাল হয়ে জনমত প্রভাবিত করে, তবে পুরো প্রেক্ষাপট অনেক সময় অজানাই থেকে যায়।

চট্টগ্রামের এ ঘটনাতেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে অস্ত্র হাতে একজন নেতার দৃশ্য, অন্যদিকে তার ব্যাখ্যা—এই দুইয়ের মধ্যে সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্বচ্ছ তদন্তই পারে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে।

এ ধরনের সংঘর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে অস্থির করে তোলে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top