বৃহঃস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩

উঠানে পাশাপাশি চার কবর: স্ত্রী-সন্তানসহ চিরনিদ্রায় হাবিবুর

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

একটি হাসিখুশি পরিবার যেখানে ছিল স্বপ্ন, ভালোবাসা আর শিশুদের কোলাহল—সেই ঘরের উঠানেই এখন পাশাপাশি চারটি কবর। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে একসঙ্গে দাফন করা হয়েছে, যা হৃদয়বিদারক এক দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো গ্রামে আনা হলে স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। বাদ আসর জানাজা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উঠানেই পাশাপাশি চারটি কবর খুঁড়ে দাফন করা হয় তাদের।

নিহতরা হলেন, হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা, নয় বছরের ছেলে পারভেজ রহমান এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার। মৃত্যুর পরও যেন একসঙ্গে থাকার আকুতি—সেই ভাবনাতেই তাদের পাশাপাশি শায়িত করা হয়েছে।

জানা যায়, গত সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে সংঘটিত হয় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুরের আত্মীয়স্বজনই এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আপনজনের হাতে নিজ ঘরে গলা কেটে হত্যা করা হয় দম্পতি ও তাদের নিষ্পাপ দুই সন্তানকে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের সম্পত্তি বিরোধ থেকেই এ হত্যার ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম এবং ভাগনে শাহিন ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্ষোভ থেকেই এ নির্মম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারকেই নয়, নাড়া দিয়েছে পুরো সমাজকে। যে সম্পর্কগুলো হওয়ার কথা ছিল ভালোবাসা ও আস্থার, সেখানেই জন্ম নিয়েছে হিংসা ও নিষ্ঠুরতা। বিশেষ করে দুই শিশুর অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই—তাদের নিষ্পাপ মুখ ভাসছে সবার চোখে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top