সন্তান নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে বসবাস স্ত্রীর, আসল ঘটনা কী?
সারাদেশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০০
ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর কবরের পাশে এক নারীর বসে থাকার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, স্বামীর কবর আঁকড়ে ধরে অসহায় জীবনযাপন করছেন ওই নারী ও তার সন্তানরা। তবে ঘটনাটি আদৌ বাস্তব নাকি সাজানো তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে খোঁজ নিতে গিয়ে জানা যায়, ঘটনাস্থলে নির্দিষ্ট সময় কবরের পাশে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে কেউ কনটেন্ট তৈরির উদ্দেশ্যে গেলে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন ওই নারী সোনিয়া, সঙ্গে তার দুই সন্তান এবং কিছু জিনিসপত্র।
সোনিয়ার দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয় সুজন মাহমুদের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিরোধ শুরু হয়। পরে স্বামী অসুস্থ হলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তার।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী সুজন মাহমুদ সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেন। স্বচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যথাযথ চিকিৎসা করাননি বলেও দাবি করেন সোনিয়া। পাশাপাশি শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাদের আশ্রয় দিতে রাজি নন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সোনিয়া স্বীকার করেন, কিছু কনটেন্ট নির্মাতার অনুরোধেই তিনি মাঝে মাঝে স্বামীর কবরের পাশে গিয়ে বসেন। প্রথমদিকে গভীর শোকে সেখানে বসতেন বলেও জানান তিনি, তবে এখন স্থানীয়দের অনাগ্রহের কারণে সেখানে কম যান।
অন্যদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ঘটনাটির পেছনে রয়েছে সম্পত্তি ভাগাভাগি সংক্রান্ত বিরোধ। বিষয়টি নিয়ে আগেও সংবাদ সম্মেলন হয়েছে বলে জানা যায়। তাদের অভিযোগ, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণেই বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে।
শ্বশুরপক্ষের পক্ষ থেকে আগের এক বক্তব্যে দাবি করা হয়, তাদের ছেলের সম্পত্তির অংশ দেওয়া নিয়ে কোনো আপত্তি নেই, তবে ঘটনাকে ঘিরে পরিস্থিতি অযথা জটিল করা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন জানান, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের কারণে আলাদা বসবাস করতেন ওই দম্পতি। সুজনের নিজস্ব বাড়ি থাকলেও সেটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
ঘটনা আলোচনায় আসার পর থেকে সোনিয়াকে এলাকায় আর দেখা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সারাদিন খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, সামাজিক মাধ্যমে সহানুভূতি পাওয়ার জন্য অনেক সময় বাস্তব ঘটনাকে অতিরঞ্জিত বা সাজিয়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দ্রুত বিষয়টির সঠিক তদন্ত ও সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।