বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
গত বৃহস্পতিবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, চলতি বছরের মার্চ মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা মূলত নতুন মুদ্রা সৃষ্টি বা টাকা ছাপানোর মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে। এতে বাজারে অর্থের সরবরাহ বেড়ে গিয়ে দ্রব্যমূল্য আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির কারণে সরকার এখন স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে অর্থনীতিতে ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে।
সেমিনারে জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতি দুর্বল পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে, ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বৈশ্বিক বাণিজ্য অস্থিরতা ও জ্বালানি মূল্যের চাপ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় কমে যাওয়া ও ব্যয় বাড়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। টাকা ছাপিয়ে অর্থ জোগান দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। রাজনৈতিক ব্যয়ের চাপও মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সেমিনারে আরও বলা হয়, বিনিয়োগে আস্থা সংকট, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দেন বক্তারা।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।