এপস্টেইন ফাইল ঘিরে নতুন বিতর্কে মাইকেল জ্যাকসনের নাম
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৫৭
মৃত্যুর পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের। আদালতের রায় কিংবা সংগীতের কিংবদন্তি মর্যাদাও যেন থামাতে পারছে না তাকে ঘিরে ওঠা বিতর্কের ঢেউ। যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত তথাকথিত ‘এপস্টেইন ফাইল’ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে, যেখানে উঠে এসেছে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম। সেই তালিকায় জড়িয়ে পড়েছে পপসংগীতের অবিসংবাদিত কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের নামও।
সম্প্রতি জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি প্রকাশ ও তা নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনার সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হচ্ছে, ওই নথিতে মাইকেল জ্যাকসনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব দাবির এখনো কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি পাওয়া যায়নি এবং যাচাই ছাড়া এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনুচিত।
এ বিষয়ে মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার ও তার উত্তরাধিকার রক্ষাকারী সংস্থাও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা জানায়, শিল্পীর বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বহু অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি কিংবা ভিত্তিহীন হিসেবে খারিজ হয়েছে। এপস্টেইন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও এখন পর্যন্ত জ্যাকসনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে—এমন কোনো সরকারি নথি বা আদালতের বক্তব্য প্রকাশ পায়নি বলে দাবি তাদের।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত দাবি ও গুজব যাচাই না করে বিশ্বাস করা বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর হতে পারে। এপস্টেইন কাণ্ডে যেসব নথি ধাপে ধাপে প্রকাশ পাচ্ছে, সেগুলোর সত্যতা, আইনগত গুরুত্ব এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো নতুন ও প্রামাণ্য তথ্য সামনে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করবে। আপাতত বিশ্লেষকদের মতে, কিং অব পপ মাইকেল জ্যাকসনের নাম ঘিরে তৈরি হওয়া এই নতুন বিতর্ক বাস্তবতার চেয়ে গুজবেই বেশি ভর করছে।
উল্লেখ্য, কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও মানবপাচারের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান। এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি প্রকাশের ফলে ইতোমধ্যে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আলোচনায় এসেছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো নথিতে কারও নাম থাকা মানেই তাকে অপরাধে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না—এক্ষেত্রে প্রেক্ষাপট ও প্রমাণই মুখ্য।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।