বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়: দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বিএনপি

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২২

তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের ১৭তম (ব্যক্তি হিসেবে ১১তম) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে প্রায় দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঐতিহ্য ভেঙে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।

এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন

সাদা জামা ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত দেখা যায়। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ও কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে তার নেতৃত্বে শুরু হলো নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভা নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সবাই গতকাল শপথ গ্রহণ করেন। তবে অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. মঈন খানের মতো কয়েকজন নেতা।

নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাকে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় রয়েছেন ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রীর ১৬ জন এবং প্রতিমন্ত্রীর সবাই প্রথমবারের মতো দায়িত্ব পেয়েছেন।

সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীসহ ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনের কূটনীতিকরা। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধান, রাজনৈতিক নেতা, সিনিয়র সাংবাদিক ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক–সামরিক কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ১ হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথিতে অনুষ্ঠানস্থল উপচে পড়ে।

নতুন সরকারে ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৯ জন আগে বিএনপির সরকারে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বাকি ১৬ জন প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। অন্যদিকে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীই নতুন মুখ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের এই সমন্বয় সরকারের কার্যক্রমে গতি আনতে পারে। তৃণমূল পর্যায়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—৬৮টি। এবারের নির্বাচনে জয়ী প্রায় ১৫০ জনই নতুন সংসদ সদস্য।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top