মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলাদেশ থেকে কুকুর পাচার হচ্ছে ভারতে

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:১৭

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেওয়ারিশ কুকুর ধরে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী রাজ্য মিজোরামে এসব কুকুর পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আকারভেদে প্রতিটি কুকুর ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লংগদু উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর শিকার করা হচ্ছে। পরে নৌকাযোগে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে সেগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে কুকুরগুলো ভারতের মিজোরামে পাচার করা হচ্ছে।

ভারতের মিজোরামে জনপ্রিয় বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’ সাধারণত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিভিত্তিক এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। অভিযোগ রয়েছে, আসন্ন উৎসবকে সামনে রেখেই সম্প্রতি কুকুর শিকার ও পাচারের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশে প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী হত্যা কিংবা অপসারণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে ভারতে, বিশেষ করে মিজোরাম রাজ্যে কুকুর জবাই ও বিক্রি নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের মার্চে মিজোরাম বিধানসভায় ‘মিজোরাম অ্যানিম্যাল স্লটার (সংশোধন) বিল, ২০২০’ পাস হয়, যার মাধ্যমে কুকুরকে ভোজ্য প্রাণীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

কয়েকজন শিকারি দাবি করেছেন, তারা বরকল উপজেলা থেকে এসেছেন এবং নিজেদের মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যেই কুকুর ধরেছেন।

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. দেবরাজ চাকমা সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“বসন্ত উৎসবকে কেন্দ্র করে মিজোরামের কিছু এলাকায় কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। উৎসবকে সামনে রেখে কুকুর শিকার করা হতে পারে।”

রাঙামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,
“প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯-এর ৭ ধারা অনুযায়ী মালিকবিহীন কুকুর হত্যা বা অপসারণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগ বহন করতে পারে, তাই বেওয়ারিশ কুকুরের মাংস খাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো এলাকায় কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর সেখান থেকে কুকুর সরিয়ে নেওয়া হলে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। তখন টিকাবিহীন কুকুর এসে জায়গা দখল করে, যা আরও ঝুঁকি বাড়ায়। এ কারণেই নির্বিচারে কুকুর অপসারণ না করতে আইন করা হয়েছে।”

প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস পরিহার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top