শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

আজ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল ও অনন্য দিন ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে, বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেই ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার সংগ্রামের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা খুঁজে পায়।

পরবর্তী সময়ে এই ভাষণই হয়ে ওঠে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল প্রেরণা। শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ফলে স্বাধীনতা, মুক্তি এবং জাতীয় চেতনা জাগরণের ইতিহাসে এই ভাষণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা।

ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও সংগ্রামের পটভূমি তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের মানুষের করণীয় সম্পর্কেও স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। অনেকের মতে, এই ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল।

সেদিন বিকেলে লাখো মানুষের সমাবেশে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তিনি দেশের মানুষকে যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

তার এই আহ্বানে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা পায়। এরপরই মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। তার বজ্রকণ্ঠের ঘোষণায় স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে বাঙালি জাতি। দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে কাঙ্ক্ষিত মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে যায় তারা।

তবে আগে প্রতিবছর দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলেও ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top