বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও সংকট নেই: সরকারের দাবি, মজুদে স্বস্তি কতটা?

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:০৮

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ বাড়ছে। তবে সরকারের দাবি—দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। যদিও বাস্তবে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইন, গ্রাহক-বিক্রেতা উত্তেজনা এবং মজুতবিরোধী অভিযান পরিস্থিতিকে কিছুটা অস্বস্তিকর করে তুলেছে।

 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ, ডিজেল: ১,২৮,৯৩৯ মেট্রিক টন, অকটেন: ৭,৯৪০ মেট্রিক টন, পেট্রোল: ১১,৪৩১ মেট্রিক টন,জেট ফুয়েল: ৪৪,৬০৯ মেট্রিক টন । 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দৈনিক গড়ে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সে হিসেবে বর্তমান মজুদ দিয়ে প্রায় ১১ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি স্থির মজুদ নয়—নিয়মিত আমদানি চলমান থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকে।

 

দেশে বছরে প্রায় ৬৫–৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর বড় অংশ আসে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর।

সম্প্রতি মালয়েশিয়া থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন এবং ভারত থেকে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে এসেছে।

 

সরকার সংকট না থাকার কথা বললেও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র, পাম্পে দীর্ঘ যানবাহনের সারি, “তেল নেই” অভিযোগ, গ্রাহক-বিক্রেতা বাকবিতণ্ডা, অবৈধ মজুতের অভিযোগ। 

অনেকের মতে, এটি মূলত “প্যানিক বাইং” বা আতঙ্কজনিত ক্রয় আচরণ। সরকার বলছে, এই দীর্ঘ লাইন “মনস্তাত্ত্বিক” বাস্তবে কোনো ঘাটতি নেই।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: ৯০ দিনের মজুদ থাকা উচিত, বাংলাদেশে সক্ষমতা: ৩০–৪০ দিনের বেশি নয় সংরক্ষণ সক্ষমতা কম হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নিয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগসাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান,  বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা,  পেট্রোল পাম্পে “ট্যাগ অফিসার” নিয়োগ,  মজুতবিরোধী অভিযান জোরদার

শুধু ৩০ মার্চেই সারাদেশে ৩৯১টি অভিযান চালিয়ে, ১৯১টি মামলা, প্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা, ৩ জনকে কারাদণ্ড এছাড়া বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সরকারের দাবি, মার্চের মতো এপ্রিলেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। গত বছরের মতোই চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে বাস্তব পরিস্থিতি বলছে—সরকারের আশ্বাসের পাশাপাশি বাজারে আস্থার ঘাটতি এখনও কাটেনি। ফলে জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা—দুই দিকেই জোর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top