সময়মতো হামের টিকা না দিয়ে বিগত দুই সরকার ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৪
সঠিক সময়ে হামের টিকা না দেওয়াকে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগের দুই সরকারের গাফিলতির কারণে দেশে হাম ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, টিকাদানে অবহেলার কারণে একসময় হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং অসংখ্য শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সম্মেলন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের তিনি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জাতীয় আয়ের পাঁচ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা জোরদার করা, নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান।
স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি জানান, এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশই নারী হবে।
দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যতথ্য সংরক্ষণ ও সহজ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে শিগগিরই ই-স্বাস্থ্য কার্ড চালু করা হবে।
তিনি স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে কাঠামোগত ও জনবল সংকট দূর করে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা জোরদার করার কথাও বলেন।
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত দেশের আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের চলাচল সুবিধায় জ্বালানি ও চালকের ব্যবস্থাও করা হবে, তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিতসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সারা দেশ থেকে আসা পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা এতে অংশ নেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।