মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

মাঝপথে নামিয়ে দিয়ে যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া প্রতারণার অভিযোগ

মিঠু মুরাদ | প্রকাশিত: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

নন্দা এলাকায় অবস্থিত একটি বাস কাউন্টারকে ঘিরে যাত্রী প্রতারণা ও হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো ঘটনা ঘটছে।

নিউজ ফ্ল্যাশের সহ-সম্পাদক মিঠু মুরাদের অনুসন্ধানে এ ধরনের অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।

জানা যায়, ২৩ এপ্রিল রাতে নন্দা এলাকার একটি কাউন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বুড়িমারীগামী বাসের টিকিট পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়। পরদিন ২৪ এপ্রিল সকাল ১১টায় ওই কাউন্টার থেকে একটি টিকিট সংগ্রহ করা হয়। যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয় রাত ৯টা।

কাউন্টার সূত্রে জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ে যাত্রীকে ফোন করে জানানো হবে। পরে রাত ৯টার আগেই ফোন করে যাত্রীর অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। যাত্রী জানান তিনি রওনা হয়েছেন। তবে পরে দেখা যায়, বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে এবং যাত্রীদের বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষায় রাখা হচ্ছে।

প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে বাসটি কাউন্টারে আসে এবং পাঁচ মিনিটের মধ্যেই যাত্রা শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, বাসটির অবস্থা ছিল নাজুক ও মানহীন। অথচ ভাড়া নেওয়া হয় ৭০০ টাকা, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি।

ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ ঘটে রাত আনুমানিক ২টার দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, লালমনিরহাট সদর থেকে কিছু দূরে এক যাত্রীকে হঠাৎ বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়, অন্য একটি বাস অপেক্ষা করছে। পরে ওই যাত্রী সেখানে গেলে জানানো হয়, এমন কোনো বাস সেখানে যায় না এবং তাকে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।

পরে সংশ্লিষ্ট কথিত বাস কর্তৃপক্ষ ওই যাত্রীকে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং জানায় তাদের কাছে এমন কোনো নির্দেশনা নেই।

এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে ঢাকা যাওয়ার পথে। ২৭ এপ্রিল সকাল ১১টায় পাটগ্রামের বরকত ট্রাভেলস কাউন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নারায়ণগঞ্জগামী স্লিপার বাসের টিকিট চাওয়া হয়। কাউন্টার থেকে জানানো হয় একটি আসন রয়েছে।

পরে সিট নিশ্চিত করে ১২৫০ টাকা দিয়ে টিকিট ক্রয় করা হয় এবং অতিরিক্ত ২৫০ টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয়। যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয় সন্ধ্যা ৬টা।

তবে সন্ধ্যা ৭টায় বাস ছাড়ে এবং যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে গভীর রাতে সুপারভাইজার জানান, বাসটি শুধু গাবতলী পর্যন্ত যাবে এবং এর বাইরে যাবে না। ফলে ভোর ৬টায় গাবতলীতে সকল যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে মাঝপথে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পরিবহন খাতে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যাত্রী আজিজুল ইসলাম বলেন, “আমি মহাখালী যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে গাবতলীতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কীভাবে গন্তব্যে যাব বুঝতে পারছি না।”

আরেক যাত্রী নুর মোহাম্মদ বলেন, “আমার অফিস সকাল ৮টায়, এখন আমি সময়মতো পৌঁছাতে পারব না। আগে জানলে এই বাসে উঠতাম না। এখন অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।”

ঢাকা সেভেন স্টার কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, তারা সংশ্লিষ্ট কাউন্টারের বিষয়ে কিছু জানে না। তবে প্রশ্ন করা হলে তারা নিশ্চিত কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে তারা বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেয়।

অন্যদিকে পাটগ্রাম শাখার বরকত ট্রাভেলস কাউন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কোনো বাস নারায়ণগঞ্জে যায় না, সব বাস গাবতলী পর্যন্ত যায়। পরে তারা এ বিষয়ে পরে কথা বলবে বলে ফোন কেটে দেয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জান্নাত জানান, আপনার টিকিটে যদি গন্তব্য সঠিকভাবে লেখা থাকে, তাহলে আপনি আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিন।



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top