শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি পড়তে না পারলে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ মে ২০২৬, ১৩:০২

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি সাবলীলভাবে পড়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে গণিতে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের মৌলিক দক্ষতাও অর্জন করাতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করে দেওয়ারও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বড় একটি অংশের শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন হচ্ছে না। বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকভাবে বাংলা পড়তে পারে না। ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা আরও বেশি বলে উঠে এসেছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি গবেষণায়, যার মধ্যে বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফের পর্যবেক্ষণও রয়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন দেশের সব জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এরপর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের কাছে নির্দেশনা পাঠান বলে জানা গেছে।

এদিকে দেশের শিক্ষা খাতে বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।

একটি গবেষণা উপস্থাপন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া অনেক শিক্ষার্থী পঞ্চম শ্রেণির মৌলিক দক্ষতাও অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে গণিতে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক।

গবেষণায় আরও বলা হয়, প্রায় ৯০ শতাংশ শিক্ষক পাঠ্যক্রম শেষ করার চাপে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের আলাদা সময় দিতে পারেন না। পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষক প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণ নিয়মিত ব্যবহার করতে পারেন না। ঘন ঘন পাঠ্যক্রম পরিবর্তনকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন অনেক শিক্ষক।

২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিচালিত এই গবেষণায় ১৪২টি বিদ্যালয়ের ১৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং ৮০০-এর বেশি শিক্ষক অংশ নেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top