সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

জুলাই হত্যা মামলার আসামি আ.লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজ্জাক সেলিম

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৭:৪৫

সংগৃহীত

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা জুলাই–আগস্ট আন্দোলন ঘিরে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার আসামি সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর–নলছিটি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। জানা গেছে, পারস্পরিক যোগসাজশে হত্যা ও হত্যায় সহায়তার অভিযোগে জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটি করেন সবুজবাগ থানার বাসিন্দা মীম আক্তার আখি (২৮)। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি মামলাটি যাত্রাবাড়ী থানায় এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৩৮৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ তালিকায় সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ২২৩ নম্বর আসামি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মো. খালেদ হাসান এফআইআর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এদিকে হত্যা মামলার আসামি হয়েও নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং হলফনামায় মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে ঝালকাঠিতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম বলেন, “২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় পর্যন্ত এ ধরনের কোনো মামলার তথ্য আমার জানা ছিল না। সে কারণে হলফনামা দেওয়ার সময় মামলার বিষয় উল্লেখ করার প্রশ্ন ওঠেনি। এখন যেহেতু বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তাই আমি নিশ্চিত হওয়ার জন্য খোঁজখবর নিচ্ছি।”

ঝালকাঠি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, “মামলার বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পদে রয়েছেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়ন বাতিল হলেও আপিলের মাধ্যমে তা ফিরে পান। সর্বশেষ ২০২৪ সালে সহসভাপতি পদে থেকে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। সে সময় দলীয় প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে তার সমর্থকদের বিরোধের জেরে মামলা হলে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top