ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক
ডা. শফিকুর রহমানের সাক্ষাৎকারে জামায়াত: প্রগতিশীল, গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দল
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৭
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “জামায়াত প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি ইসলামী রাজনৈতিক দল, যা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিল রেখে নীতিগুলো ক্রমাগত পরিমার্জন করে। আমরা সবসময়ই গণতান্ত্রিক ও জনমুখী রাজনীতিতে বিশ্বাসী।”
ভারতের সাপ্তাহিক ইংরেজি ম্যাগাজিন ‘দ্য উইক’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির এসব মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারটি আগামী রোববার ছাপা ম্যাগাজিনে প্রকাশ হবে। সাক্ষাৎকারে জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান জানান, নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে থাকা সত্ত্বেও দল কখনও গণতান্ত্রিক কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছে, গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে থাকে তখন সব গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্য অপরিহার্য। এই সময়কালে জামায়াত সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে, শৃঙ্খলা কড়া করেছে এবং তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করেছে।
তিনি আরও জানান, ২০১৩ সাল থেকে কার্যত নিষিদ্ধ অবস্থায় থেকেও জামায়াত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেনি। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ দুর্নীতি ও অপশাসনের বিকল্প হিসেবে দলটির প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাদের ছাত্র সংগঠন সাফল্য দেখিয়েছে।
জামায়াতের আমির স্পষ্ট করেছেন, দল শুধু নির্দিষ্ট আদর্শের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা বহুদলীয় গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনে বিশ্বাসী। ইতোমধ্যে তারা ১০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট না থাকলেও জাতীয় স্বার্থে ‘গঠনমূলক সহযোগিতা’ ও ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান রয়েছে। জোটবদ্ধ রাজনীতিতে তাদের তিনটি মূলনীতি হলো– জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতি।
সংখ্যালঘু ও নারীদের বিষয়ে সমালোচনার জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদায় বিশ্বাসী। প্রমাণ হিসেবে তিনি হিন্দু প্রার্থী মনোনয়নের উদাহরণ দেন। তবে আসন বণ্টন ও জোটগত সমীকরণের কারণে নারী প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। জোটের অন্যান্য নারী প্রার্থীদের প্রতি দল সমর্থন দিচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের হয়ে নারী জনপ্রতিনিধি হওয়ার নজিরও রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান অতীতের বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত যদি কোনো জামায়াত সদস্যের কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তবে তার জন্য তিনি ক্ষমাপ্রার্থী।
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।