কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকারী মন্তব্যের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামের আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫:২৪
কর্মজীবী নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়েছে ১১টি নারী সংগঠন।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন সংগঠনগুলোর নেতারা। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।
তিনি বলেন, “ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের বিষয়ে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ এবং নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা শুধুমাত্র নারীর প্রতি অবমাননা নয়, দেশের শ্রমজীবী নারীর শ্রম, মর্যাদা ও সামাজিক অবদানকে অস্বীকার করা।”
মোশরেফা মিশু আরও বলেন, “যদিও সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মন্তব্যটি হ্যাকিংয়ের কারণে প্রকাশিত হয়েছে, তবে ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। হ্যাকিং সংক্রান্ত অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার দেখানো হলেও পুলিশ পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
তিনি বলেন, “বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমজীবী নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের এই অবদানকে হেয় করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেয়া সংবিধান, মানবাধিকার ও নারী মর্যাদার পরিপন্থী।”
সংগঠনগুলোর চারটি দাবি হলো—
- ১. অবিলম্বে ওই অবমাননাকর মন্তব্য প্রত্যাহার করা।
- ২. কর্মজীবী নারী ও শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা।
- ৩. ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করার মতো মন্তব্য থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করা।
- ৪. নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রার্থিতা বাতিল করা।
মোশরেফা মিশু বলেন, “গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সব নাগরিকের মর্যাদা ও সমান অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইসির সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।”
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন মোশরেফা মিশু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনটিএর’র মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারী রাজনৈতিক ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নারী বিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, আইনজীবী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি, গ্রিন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জনভাষ্যের কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম আরা নীপা, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা এবং নারীপক্ষের প্রতিনিধি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।