রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২

টিউশনির টাকায় ‘এমপি প্রার্থী’ পরমানন্দ দাস

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:৩৫

সংগৃহীত

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী পরমানন্দ দাস এবার ভোটারদের সামনে দাঁড়াচ্ছেন স্বল্প খরচের, সাদামাটা প্রচারণায়। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অভিজ্ঞ ও শক্তিশালী হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিপক্ষে।

৩৫ বছর বয়সী পরমানন্দ দাস উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছহাটী গ্রামের রামচন্দ্র দাসের ছেলে। বাবা পেশায় জেলে। সীমিত অর্থে পড়াশোনা চালিয়ে তিনি এলএলবি ও স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। চাকরির সুযোগ না পাওয়ায় টিউশনির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন এবং টিউশনির আয়কে মূল নির্বাচনি তহবিল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

পরমানন্দ দাস বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল–মার্কসবাদী থেকে ‘কাঁচি’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামায়াতসহ আরও কয়েকটি বড় দলের হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র।

তবে অন্যান্য প্রার্থীদের বিপরীতে পরমানন্দ দাসের প্রচারণা সাদামাটা। তিনি একটি পুরোনো স্কুটিতে চড়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভোট প্রার্থনা করছেন। ডিজিটাল প্রচারণা বা বিশাল কর্মী বাহিনী ছাড়াই সাধারণ মানুষকে সরাসরি ভোটে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, পরমানন্দ দাসের নিজস্ব নগদ সম্পদ ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং টেলিভিশন, ফ্রিজ, ফ্যানসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৮০ হাজার টাকা। জমি বা বাড়ি নেই। নির্বাচনের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা তিনি পরিবারের সদস্য এবং দলের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে পূরণ করছেন।

পরমানন্দ দাস বলেন, “রাজনীতি শুধু টাকার খেলা নয়, মানুষের বিশ্বাসই আসল শক্তি। জয়-পরাজয় বড় কথা নয়, মানুষের অধিকারের কথা বলাই আমার লক্ষ্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বড় বড় প্রার্থীর বিপক্ষে লড়াই কঠিন, তবে আমার ভরসা সাধারণ মানুষ। সততা আর আদর্শই আমার শক্তি।”

এ আসনে ১২৩টি ভোটকেন্দ্রে ৭৬৯টি কক্ষে মোট ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৪, নারী ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৪ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top