আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘জায়েদ খান’ নামের একটি বিশাল আকৃতির ষাঁড়। জেলার সবচেয়ে বড় গরু হিসেবে দাবি করা এই ষাঁড়টি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষজন।
জানা গেছে, দৌলজোর এলাকার আইনজীবী মজমুল প্রামাণিকের খামারে লালন-পালন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই গরুটি। পেশায় ব্যস্ত আইনজীবী হলেও শখের বসে দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর ধরে কৃষি ও পশুপালনে যুক্ত তিনি। তার খামারে মাছ, কবুতর ও ফসলের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে একটি সমৃদ্ধ গরুর খামার।
‘জায়েদ খান’ নামের এই ষাঁড়টি বার্মা জাতের, যার গায়ের রঙ সাদা-কালোর মিশেলে বেশ আকর্ষণীয়। মাপ অনুযায়ী এর উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৫ ফুট, দৈর্ঘ্য ৯ ফুট এবং বুকের ঘের প্রায় ৬ ফুট। অভিজ্ঞ খামারিরা ধারণা করছেন, জবাই করলে এ গরু থেকে ২৬ থেকে ২৭ মণ পর্যন্ত মাংস পাওয়া যেতে পারে।
খামার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও দেশীয় পদ্ধতিতে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে পুষ্টিকর খাদ্য দিয়ে বড় করা হয়েছে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় রয়েছে দানাদার খাবার, গমের ভুসি, সবুজ ঘাস ও খড়। প্রতিদিন এক বেলাতেই প্রায় ৩ কেজি দানাদার খাদ্য খায় ষাঁড়টি।
গরুটির সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য খামারে দুইজন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। খামারে আরও গরু থাকলেও এবারের কোরবানির জন্য শুধুমাত্র ‘জায়েদ খান’কেই প্রস্তুত করা হয়েছে।
খামার কর্তৃপক্ষ গরুটির দাম নির্ধারণ করেছেন ১২ লাখ টাকা। তবে এটি কোনো পশুর হাটে তোলা হবে না। আগ্রহী ক্রেতাদের সরাসরি খামারে গিয়েই গরুটি দেখতে ও কিনতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খামারের স্বত্বাধিকারী মজমুল প্রামাণিক জানান, “এবারের কোরবানিতে ‘জায়েদ খান’ আমাদের প্রধান আকর্ষণ। আকৃতি ও ওজনের দিক থেকে এটি জেলার সেরা গরু বলেই আমরা বিশ্বাস করি।”
ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ‘জায়েদ খান’কে ঘিরে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত এই বিশাল ষাঁড়টি কার কোরবানির অংশ হয়।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।