বাগেরহাটে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে মাঠের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে আবার বাড়তি মজুরির চাপেও মিলছে না শ্রমিক—সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে চাষিদের।
কচুয়া উপজেলার ধলনগর গ্রামের দিনমজুর মুজিবর শেখ ঋণ নিয়ে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছিলেন। কিন্তু শিলাবৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে তার ক্ষেতের ধান ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কাটা ও না-কাটা—উভয় ধানই এখন পানির নিচে।
তিনি জানান, জমি বন্ধক, চাষাবাদ, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ সব মিলিয়ে বিপুল খরচ হয়েছে। এনজিও থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকার ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মুজিবর শেখ বলেন, “একজন শ্রমিক আনতে গেলে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা দিতে হয়। খাওয়াসহ মোট খরচ দাঁড়ায় ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা। একদিনে একজন শ্রমিকের জন্য প্রায় দুই মণ ধানের সমান খরচ হচ্ছে, তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।”
স্থানীয় কৃষক ইয়াকুব আলী হাওলাদার জানান, শিলাবৃষ্টিতে আগে থেকেই ধানের ক্ষতি হয়েছিল। এখন আবার পাকা ধান কাটার সময় বৃষ্টিতে জমিতে হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, “চার বিঘা জমিতে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ করেছি। কিন্তু বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী সব মিলিয়ে ৬০-৭০ হাজার টাকার বেশি পাওয়া যাবে না। বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছি।”
আরেক কৃষক বিনয় সরকার বলেন, পানিতে ডুবে থাকা ধান দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ৬৮ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৩ হাজার হেক্টরের ধান কাটা হয়েছে। বাকি জমির ধান এখনও মাঠে রয়েছে, যা অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতির ঝুঁকিতে আছে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন জানান, টানা বৃষ্টিতে কিছু জমিতে ধান হেলে পড়েছে এবং কাটা ধান ঘরে তোলা যায়নি। এতে ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কৃষকেরা অভিযোগ করেছেন, আগাম কোনো আবহাওয়া সতর্কবার্তা না পাওয়ায় তারা সময়মতো ধান কাটতে পারেননি। স্থানীয়ভাবে মাইকিংয়ের মাধ্যমে পূর্বাভাস দিলে ক্ষতি কিছুটা কমানো যেত বলে মনে করছেন তারা।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।