ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ে টানা উচ্চ প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিল মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। এ নিয়ে টানা পাঁচ মাসে প্রতিমাসেই ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে দেশে।
ব্যাংকাররা বলছেন, বৈশ্বিক নানা সংকট ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রবাসী আয়ের এই ধারাবাহিক প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স আসে প্রায় ৩৭৬ কোটি ডলার, যা একক মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতে আসে ৩০২ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার এবং গত ডিসেম্বরেও আসে ৩২২ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৩৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৪৫৪ কোটি ডলার। এক বছরে বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪৭৯ কোটি ডলার বা প্রায় ১৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
অর্থপাচার রোধে কঠোর নজরদারি, প্রবাসে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা এবং হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে ডলারের দর স্থিতিশীল রয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এতে আমদানি–রপ্তানি ভারসাম্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে ঘিরে মে মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়তে পারে।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।