রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি যেন থামছেই না। সবজি, মাছ, ডিম—প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে ভিড় থাকলেও নেই স্বস্তি; দাম শুনেই অনেকেই কিনতে দ্বিধায় পড়ছেন।
জ্বালানি সংকট ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। লোডশেডিংয়ের প্রভাবেও উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনপ্রতি বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। আগে যেখানে ১১০–১২০ টাকায় ডিম পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৩৫–১৪০ টাকায়।
চিনি, আটা, ময়দা ও ছোলাসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা এবং খোলা তেল ২০৫–২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও দাম ঊর্ধ্বমুখী। রুই: ৩২০–৫০০ টাকা, তেলাপিয়া: ২২০ টাকা,পাবদা: ৪৫০ টাকা, চিংড়ি: ৮০০–১২০০ টাকা, ইলিশ: ২০০০ টাকার বেশি।
দাম বেশি হওয়ায় দর-কষাকষিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
সবজির বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া কঠিন। বরবটি, ঝিঙা, করলা, কাঁকরোল—প্রায় সবই ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় পণ্য পরিবহনে ট্রাকভাড়া কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে বাড়তি খরচ সামাল দিতে গিয়ে পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে।
মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে। ব্রয়লার: ১৭০ টাকা, সোনালি: ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি: ৭০০ টাকা।
ঢাকার আশপাশ থেকে সরবরাহ হওয়ায় পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব এখানে কম। তবে সামনে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্যের দাম বাড়ে, কিন্তু কমলেও আর কমে না। অনেকের মতে, বাজারে কার্যকর তদারকি না থাকায় অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজারে দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, সব পণ্যে সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে মাছ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ ডিম কেনাও সীমিত করেছেন।
পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।