বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হচ্ছেন আরিফ মোহাম্মদ খান

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৫৫

সংগৃহীত

ভারতের বিহারের গভর্নর ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরিফ মোহাম্মদ খান-কে ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই নিয়োগ শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো ভারতীয় উপমহাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসেও একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আরিফ মোহাম্মদ খান কংগ্রেসসহ একাধিক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেতা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত।

তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে আছে বহুল আলোচিত শাহ বানু মামলা-র সঙ্গে। সে সময় রাজীব গান্ধী সরকারের মন্ত্রী হিসেবে তিনি লোকসভায় শাহ বানুর রায়ের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। এতে ধারণা তৈরি হয়েছিল, সরকার মুসলিম নারীদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেবে।

কিন্তু বাস্তবে সরকার ভিন্ন পথে হাঁটে। মুসলিম ভোটব্যাংক ধরে রাখার রাজনৈতিক চাপে রাজীব গান্ধী সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কার্যত অকার্যকর করতে ১৯৮৬ সালে ‘মুসলিম মহিলা (বিবাহবিচ্ছেদে অধিকার সুরক্ষা) আইন’ পাস করে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মন্ত্রিসভা ও কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন আরিফ মোহাম্মদ খান।

পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলে যোগ দেন এবং শেষ পর্যন্ত ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে যুক্ত হন। একাধিকবার মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে তিনি বিহারের রাজ্যপাল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এত উচ্চপ্রোফাইলের একজন রাজনীতিককে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানো ভারতের কৌশলগত সিদ্ধান্তেরই ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ-এর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করা, আঞ্চলিক রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আরিফ মোহাম্মদ খান-কে কেন্দ্রীয় পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় পাঠানো হতে পারে, যা তার রাজনৈতিক গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দুই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেই।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:


পাঠকের মন্তব্য

মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Top